হার্ট অ্যাটাক কি? কখন হয়,ও কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা !
হার্ট অ্যাটাক কি? কখন হয়,ও কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা !
হার্ট অ্যাটাকের কারণে গোটা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়। বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ ভুগছে হার্টের সমস্যায়। হার্ট অ্যাটাক খুব সহজেই একজন মানুষকে মেরে ফেলতে পারে। ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ এবং ৫৫ বা তার বেশি বয়সের মহিলাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা, কম বয়সী পুরুষ ও মহিলাদের থেকে বেশি থাকে।
![]() |
| Easy Hatbazar |
হার্ট অ্যাটাক কি:
আমাদের হৃদপিণ্ডের নিজস্ব রক্তনালি থাকে। এই রক্তনালিতে চর্বি, কোলেস্টেরল জমে গেলে এর ওপর রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে। ফলস্বরুপ, রক্তনালিগুলি পুরোপুরি ব্লক হয়ে যায় এবং রক্ত প্রবাহের পথে বাধা পায়। এর ফলে, হঠাৎ করে বুকে ব্যাথা এবং সেখান থেকে পরিস্থিতি জটিল হলে মৃত্যুও হতে পারে। একেই আমরা হার্ট অ্যাটাক বলি।
মূল কথা হার্ট অ্যাটাক হল হার্ট ঠিক মত কাজ না করা। সারাক্ষণ হার্টের কাজ করার জন্য প্রয়োজন হয় অক্সিজেন ও পুষ্টি। এই অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহের জন্য রয়েছে হার্টের নিজস্ব রক্তনালী। হৃৎপিন্ডে পুষ্টির যোগান দেয় করোনারি আর্টারি নামে হৃৎপিন্ডের গায়ে লেগে থাকা দুটি ছোট ধমনী বা রক্তনালী। রক্তনালীর যেকোনো একটি যদি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে হার্ট অ্যাটাক হয়। মেডিকেলের ভাষায় একে বলেমায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন।
হার্ট অ্যাটাক কখন হয়?
আমরা অনেকেই মনে করি, মানুষের বয়স বাড়লে , মোটা হলে বা দুশ্চিন্তা করলে হার্ট অ্যাটাক হয়। কিন্ত, এটা ভুল ধারণা যে কোন সময় হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায়, বিশ্রামের সময়, হঠাৎ ভারী কায়িক শ্রমের জন্য, কখনো হঠাত ঠান্ডা আবহাওয়ায় বেরুলে, ইমোশনাল স্ট্রেসের জন্য, কখনো হাটা চলার মধ্যেহার্ট অ্যাটাক হয়।হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ :
- ক) শ্বাসকষ্ট
- খ) ঘাম বেরোনো
- গ) মাথা ঝিমঝিম করা
- ঘ) বুকে অসহ্য চাপ, অস্বস্তি বা ব্যথা
- ঙ) বমি বমি ভাব, বমি হওয়া
- চ) নিজেকে শক্তিহীন বা শ্রান্তবোধ করা।
- ছ) বাহু, গলা, পিঠ, চোয়াল বা পাকস্থলির উপরের অংশ ব্যথা বা অস্বস্তি, ইত্যাদি।
হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা :
১) রোগীকে শক্ত জায়গায় শুইয়ে দিন এবং তার গায়ের জামা-কাপড় ঢিলেঢালা করে দিন। দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসাতে পারেন। রোগীকে হেলান দিয়ে হাঁটু মুড়ে বসালে রক্তচাপ কমবে।
২) এই সময় রোগীকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩) রোগীর যদি অ্যাসপিরিনে অ্যালার্জি না থাকে তাহলে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে। তবে তা রোগীকে চুষে বা চিবিয়ে খেতে হবে।
৪) রোগী অচেতন হয়ে গেলে সিপিআর-এর সাহায্য নিতে হবে। সিপিআর হলো দু'হাত দিয়ে বুকের ওপর হালকা চাপ দেওয়া এবং মুখ দিয়ে রোগীর মুখে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা।
৫) রোগীর পালস রেট ও রোগী কেমন সাড়া দিচ্ছে ঘনঘন তা চেক করা দরকার।
৬) রোগী যদি বেশি ঘামতে থাকে তাহলে তার জিভের নিচে এক চামচ গ্লুকোজ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু, ভুলেও কোনও ঠাণ্ডা এবং মিষ্টি পানীয় রোগার মুখে দেওয়া যাবে না।
৭) রোগীর যদি শ্বাস নিতে অসুবিধা হলে তার শরীরে যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাতাস পৌঁছয় তার ব্যবস্থা করতে হবে।
৮) রোগীর বমি হলে তা শ্বাসনালীতে যাতে চলে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।

No comments