হজমশক্তি বৃদ্ধিতে বহেড়া

হজমশক্তি বৃদ্ধিতে বহেড়া



বহেড়া এক ধরনের ঔষধি ফল। বহেড়া ফল উপমহাদেশের প্রাচীনতম আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। বহেড়া বিশেষভাবে পরিশোধিত হয়ে এর ফল, বীজ ও বাকল মানুষের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ও চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। 

আসুন জেনে নেয়া যাক বহেড়া ফলের ঔষধিগুণগুলো-

১) হজমশক্তি বৃদ্ধি ও ক্ষুধামন্দায় : প্রতিবার পাঁচ-ছয় গ্রাম বহেড়ার খোসা চূর্ণ আহারের পর দিনে দুই বার সেবন করে গেলে হজমশক্তি বৃদ্ধি ও ক্ষুধামন্দায় বিশেষ উপকার হয়।

২) পাতলা পায়খানায় এক গ্রাম পরিমাণ নাগরমুথা চূর্ণ ও তিন গ্রাম পরিমাণ বহেড়ার খোসা চূর্ণ একত্রে দিনে তিন-চার বার ঠাণ্ডা পানিসহ খেয়ে গেলে পাতলা পায়খানা দ্রুত প্রশমিত হয়।

৩) শরীরে কোন স্থান কেটে রক্ত বেরুতে থাকলে উক্ত কাটা স্থানে বহেড়ার মিহি চূর্ণ প্রলেপ দিলে দ্রুত রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়।

৪) এই গাছের ফল কোষ্টকাঠিন্য, জন্ডিস, কাঁশি এবং রক্তক্ষরণ বন্ধে ব্যবহৃত হয়।

৫) বীজ থেকে উৎপাদিতে তৈল মালিশ করলে বাত সেরে যায়। বহেড়ার ফল ত্রিফলার একটি উপাদান।

৬) প্রতিবার পাঁচ গ্রাম বহেড়ার খোসা চূর্ণের সঙ্গে তিন-চার চা চামচ মধু সেবন করলে মাথা ব্যথা ও মস্তিষ্কের দূর্বলতায় বিশেষ ফলপ্রদ।

৭) রক্ত আমাশয় কিংবা পুরাতন আমাশয়ে প্রতিবারে তিন-চার গ্রাম বহেড়া খোসা চূর্ণ প্রত্যহ ২-৩ বার ঠাণ্ডা পানিসহ সেবন করে গেলে বিশেষ ফলপ্রদ।

৮) বহেড়া বীজের শ্বাস অল্প পানি দিয়ে মিহি করে মুখে রাখলে দাঁতের মাড়ির ক্ষত ভালো হয়।

৯) ফুলে যাওয়া কিংবা কেটে গেলে : কোথাও ফুলে গেলে বা কেটে গেলে বহেড়া মিহি করে বেটে প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়।

১০) ফলের ভিতরের অংশ ডায়রিয়া, আমাশয় এবং পাইলস নিরাময়ের জন্য বেশ কার্যকরী।


১১) দীর্ঘস্থায়ী জ্বর ও শ্বাসনালীর প্রদাহের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।

১২) চোখের অসুখ এবং বিষাক্ত পোকা-মাকড়ের কামড় ইত্যাদিতে বহেড়া ব্যবহার হয়।

বহেড়া বৃক্ষর পরিচিতি : 

উচ্চতায় ৪০ মিটার। পাতা একান্তর ও ডালের শীর্ষে জড়োভাবে থাকে। পাতা লম্বাটে ১৮-২০ সে.মি.। পাতার বোটা লম্বা। বাকল নীলাভ বা ধূসর ছাই বর্ণের লম্বা, সরু ফাটলযুক্ত। ফুল সবুজাভ সাদা, ডিম্বাকৃতির ৮ সে.মি. লম্বা। শীতকালে পাতা ঝরে যায়। বসন্তকালে পাতা গজায় এবং এ সময় ফুল আসে।

No comments

Theme images by Jason Morrow. Powered by Blogger.